দুর্গাপুজোয় মমতার ঘোষণা ‘হতশ্রী’ প্রকল্প!

0
1356

এরকম আরও মজাদার নিউজ পেতে আমাদের পেজটি স্ক্রল করে নীচে দেখুন অথবা আমাদের নতুন সংযোজন আরও পড়ুন অপশনটিতে ক্লিক করুন।

দুর্গা পুজো, বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্বণ এই দুর্গা পুজো। বাঙালি সারাবছর ধরে অপেক্ষা করে থাকে এই প্রতিটা বাঙালির আবেগ,উৎসবের জন্য। তাদের বাঙালিয়ানা এই দুর্গা পুজো। সারাবছর প্রতিটা বাঙালি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে এই উৎসবের জন্য। এই সময় নতুন জামা কিনবে, নতুন জুতো কিনবে। বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় পরিজনদের সাথে মজা করবে, সকলেই এগুলোর জন্যে সারা বছরটাই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে থাকে। কিন্তু এই বছর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২৮০০০ পুজো কমিটিকে ১০০০০ টাকা করে মোট ২৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে। সম্প্রতি এটা নিয়ে একটা প্রবল বিতর্ক শুরু হয়ে হয়েছে রাজ্য জুড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, রাজ্যের মানুষের করের টাকা নিয়ে একটা সার্বজনীন পুজো কমিটিকে দেওয়ার মানে? অনেকেই এই প্রশ্ন তুলেছেন যে, স্বাধীনতার এত বছর পরেও যেখানে লক্ষ লক্ষ পরিবারকে দু’টাকা কেজি দরে চাল দিতে হয়, সেখানে একটা সর্বজনীন উৎসবের জন্য কেন অর্থ ব্যয় করবে সরকার? যেখানে কিনা পুজোর উদ্যোক্তারা পুজোর বাজেট রাখেন লক্ষ লক্ষ টাকা। সেখানে ১০০০০ করে বেশি দেওয়ার কি দরকার?

বেশিরভাগ মানুষই এই প্রশ্ন সরকারের সামনে রেখেছে যে, যেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে না আজ কয়েক বছর ধরে, তাদের প্রাপ্য টাকা তারা পাচ্ছে না, সেখানে সাধারণের করের টাকা খরচ করে কোন যুক্তিতে পুজো কমিটি গুলো কে ২৮ কোটি টাকার উপহার দেওয়া হচ্ছে? পুজো মানে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও রয়েছে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়তেই পারে সরকার। কিন্তু কোন অধিকারেই সাধারণের করের টাকা পুজোয় দিতে পারে না।

আরও পড়ুন- আপনার ভাগ্য ফিরতে পারে দুর্গাপুজোয় এই পাঁচটি কাজ করলে

সম্প্রতি এই নিয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও হয়েছিল, যেখানে প্রধান বিচারপতি এই টাকা দেওয়ার প্রসেস টি আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছেন। আচ্ছা একবার ভাবুন, বছরের পর বছর যে সব পুজো উদ্যোক্তারা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পুজো করেছে, তাদের কীসের অভাব দেখা দিল? এও কি তবে পপুলার পলিটিক্স? এখনও বাংলায় এমন ‘হতশ্রী’ দশা হয়েছে কি যে বছরে একবার কন্যা উমাকে বাপের ঘরে রাখতে ‘জমিদার’-এর দয়ার দিকে চেয়ে থাকতে হবে প্রজাদের? কে জানে!

আরও পড়ুন- দুর্গাপূজায় ভুলেও করবেন না এই ৭টি কাজ হতে পারে সর্বনাশ !

আরও পড়ুন- হিন্দু শাস্ত্রে কেন মৃতদেহ কে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়

তারচেয়ে বরং একটা সমাধান দেওয়া যেতে পারে, সমস্ত পুজোই প্রতিবছরই রাজ্যের উদ্যোগে হোক। এতে সমস্ত খরচ খরচা রাজ্যই দেবে। আর সাধারণ মানুষ পুজোর আমন্দ উপভোগ করতে সারাবছরই কর দিয়ে যাবে। পুজো কমিটি চালাবেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা। এটা কিন্তু ভালো একটা উপায়। রাষ্ট্র ভেবে দেখবেন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন এখানে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here