প্রেমে পড়েছি? সত্যি জানো?

0
272

যে-তুমি কখনও প্রেমে, সম্পর্কে বিশ্বাসই করতে না, ভাবতে তোমার পক্ষে প্রেমে পড়া কিছুতেই সম্ভব নয়, সেই তুমিই যেন কয়েকদিন ধরে ভীষণ করে প্রেমে বিশ্বাস করতে শুরু করে ফেললে! তারপর কয়েকদিন লাভ না ক্রাশ— দড়ি টানাটানির পর ফাইনালি বুঝলে প্রেম-ট্রেম কিস্যু না, ‘ও’ ছিল নেহাতই ইনফ্যাচুয়েশন। ফলে মোহ ও হৃদয়— দুই-ই ভেঙে খানখান!

স্ক্রিনটার দিকে ঠায় তাকিয়ে আছ, কখন সেই বহু প্রতীক্ষিত ‘পিং’-টি শোনা যাবে। মুহূর্তে চোখ চলে যাবে ফোনের স্ক্রিনে। অমনি দু’ আঙুল সচল, গোটা পৃথিবী একদিকে আর তুমি-তোমার ফোন একদিকে… কিংবা কলেজ ব্রেকে দেখা হওয়ার কথা আছে, ক্লাস না হলেই তুমি ছুটবে কাঙ্ক্ষিত সেই ডেটের পথে, ক্লাস দূরে যাক, মাঝে-মাঝেই চোখ চলে যাচ্ছে ফোনের স্ক্রিনে। আয়না না হোক, নিজেকে কেমন লাগছে দেখার জন্য তখন চারচৌকো ওই কালো খোপটিই কাফি!

মোদ্দা ব্যাপারটা হল, তুমি, মানে যে-তুমি কখনও প্রেমে, সম্পর্কে বিশ্বাসই করতে না, ভাবতে তোমার পক্ষে আর যাই হোক, প্রেমে পড়া কিছুতেই সম্ভব নয়, সেই তুমিই যেন কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে কী জানি-কীভাবে ভীষণ করে প্রেমে বিশ্বাস করতে শুরু করে ফেললে! তারপর কয়েকদিন লাভ না ক্রাশ— দড়ি টানাটানির পর ফাইনালি বুঝলে প্রেম-ট্রেম কিস্যু না, ‘ও’ ছিল নেহাতই ইনফ্যাচুয়েশন। ফলে মোহ ও হৃদয়— দুই-ই ভেঙে খানখান!

 

চ্যাটই সব!

মাত্তর কিছুদিন হল আলাপ-পরিচয় হয়েছে ‘ওর’ সঙ্গে। এর মধ্যেই অবস্থা খুব খারাপ। কথা না বলে বা সারাক্ষণ চ্যাট না করে থাকাই যাচ্ছে না। সিরিয়াসলি প্রেম করতে শুরু করবে কিনা, তা নিয়েও ভাবতে শুরু করেছ। কিন্তু সাবধান। গড়গড় করে এগিয়ে যাওয়ার আগে তিষ্ঠ বৎস! প্রেম কিন্তু অত সোজা ব্যাপার নয়, প্রেমে পড়তে বেশ সময়-টময়ও লাগে। তাই আগে ভাল করে বুঝে নাও যে এটা প্রেমই কিনা। মেনে নিচ্ছি যে তুমি সারাক্ষণ তার কথাই চিন্তা করছ, কিন্তু ভেবে দেখো, সেটা কি শুধু অবসর সময়েই চিন্তা করছ নাকি সবসময়েই! আর হ্যাঁ, সময় নিতে কিন্তু ভুলো না। কারণ তাড়াতাড়ি যেটা হয়, সেটা কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই ইনফ্যাচুয়েশন বা ক্রাশই হয়।

 

কিচ্ছু মেলে না?

ভাবছ প্রেমে পড়েছ, এদিকে যার প্রেমে তুমি কাত, তার কোনও কিছুই পছন্দ হচ্ছে না। ছোটখাটো জিনিস নিয়ে সারাক্ষণ খিটিমিটি লেগেই আছে! সে যদি বাসে যায়, তুমি যাও ট্যাক্সিতে, সে যদি আইসক্রিম খায়, তুমি খেতে চাও কুলফি! কোনও কিছুতেই তোমাদের মোটে মিল নেই। তোমার পছন্দকেও সে গুরুত্ব দেয় না, তুমিও তাকে সবসময় হ্যাটা করার সুযোগ পেলে ছাড়তে চাও না। এরকম যদি তোমাদের অবস্থা হয়ে থাকে, তা হলে কিন্তু নিশ্চিত থাকো। এটা মোটেও প্রেম নয়, এমনকি এখন দিব্য প্রেম-প্রেম মনে হলেও টিকবে না মোটেও। কারণ পছন্দ না হওয়া আর সারাক্ষণ খিটিমিটি নিয়ে আর যাই হোক, প্রেম চলে না। খুব শিগগিরি তুমি হাঁফিয়ে যাবেই!

 

আরও ‘অপশন’?

প্রেমে পড়েছ বলে মনে হচ্ছে, ‘তার’ কথা সারাক্ষণ ভাবতেও ইচ্ছে করছে, কাজের ফাঁকে ফাঁকা সময় পেলেই চোখ চলে যাচ্ছে ফোনের স্ক্রিনে, চ্যাটও করছ, সময়ে-সময়ে দেখাও করছ, দিব্য গপ্পোও হচ্ছে দু’জনে মিলে। কিন্তু সেইসঙ্গে সমান তালে চলছে অন্যদের সঙ্গে ফ্লার্টিং। হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকে তাদের সঙ্গে কথাও চলছে বেশ! কে তোমায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাল বা কে কোথায় চাকরি করে, কাকে কেমন দেখতে সেগুলোও চোখে পড়ছে তোমার। কেউ তোমায় পিং করলে তার সঙ্গে কথা চালাতেও ইচ্ছে করছে। এইসব যদি হয়, তাহলে কিন্তু বুঝবে এটা আদৌ প্রেম নয়। কারণ ‘ভাল’ কাউকে পেলে ‘কে বেটার’, সেটা তোমার মন কিন্তু যুক্তি-টুক্তি দিয়ে ভেবে নিতে ভুলবে না!

 

আফসোস!

প্রেমও (মানে তুমি যাকে প্রেম ভাবছ আর কী!) চলছে প্রেমের মতো আর তুমিও এর-তার প্রোফাইল ঘেঁটে কে কীভাবে প্রেম করছে, কোথায় খাচ্ছে, কোথায় ডিপি দিচ্ছে, কার সঙ্গে প্রেম করছে এসব দেখছ। মনে-মনে আফসোসও করছ যে তোমার প্রেমটা ‘অত ভাল’ কিছুতেই হচ্ছে না। যা কিছুই করে থাকো না কেন, কেবলই মনে হচ্ছে ব্যাপারটা ঠিক অমুকের মতো হচ্ছে না। সাবধান বন্ধু। প্রেম মানে কিন্তু তুলনা নয়। আর যখনই প্রেমের ক্ষেত্রে তুলনা চলে আসে তখনই বুঝবে যেটার মধ্যে তুমি আছ, সেটা হয়তো আদৌ প্রেম নয়। নিছকই ইনফ্যাচুয়েশন! ভাল করে, মজা করে ‘টাইম পাস’ করার ইচ্ছে, খানিক ডিপি দেওয়া, শো-অফ আর ভাল-ভাল জায়গায় খাওয়া। তাই সেক্ষেত্রে বেশি দূর না এগনোই ভাল!